শ্রীলঙ্কার কাছে লজ্জার হার বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার কাছে লজ্জার হার বাংলাদেশের

নিউ সিলেট ডেস্ক : ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলো শ্রীলঙ্কা। বড় জয়ে বোনাস পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় লঙ্কানরা। ফলে সিরিজ থেকে বিদায় ঘটলো জিম্বাবুয়ের। এই জয়ে ৪ খেলায় ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে থেকে ফাইনালে খেলবে শ্রীলঙ্কা। ৪ খেলায় ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করে রেখেছিলো বাংলাদেশ। আর ৪ খেলায় ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে সিরিজ শেষ করলো জিম্বাবুয়ে। আগামী ২৭ জানুয়ারি টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার টস ভাগ্যে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। শ্রীলঙ্কার বোলারদের তোপে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। দলীয় ৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। শুন্য হাতে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। এরপর জুটি বাঁধেন আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। প্রথম তিন ম্যাচের মতো এবারও দু’বন্ধুর ব্যাটিং কারিশমা দেখায় অপেক্ষায় ছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু এবার ব্যর্থ হলেন তারা। জুটিতে ১০ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি তামিম ও সাকিব। তামিমের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউটের ফাঁদে পড়েন সাকিব। ২টি চারে শুরুটা দুর্দান্তই করেছিলেন সাকিব। তাই ঐ ৮ রানেই থেমে যেতে হয় তাকে। সাকিবের বিদায়ের পরের ওভারেই বিদায় নেন তামিম। সাকিবের মতো শুরুটা করতে নাম পারলেও বেশ সর্তক ছিলেন তামিম। তাই কোন বাউন্ডারি ছাড়াই ১৪ বলে ৫ রান করে ফিরেন লিগ পর্বে প্রথম তিন ম্যাচে ৮৪, অপরাজিত ৮৪ ও ৭৬ রান করা তামিম। দলীয় ১৬ রানে তামিমের বিদায়ের পর শুরুর ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রতিপক্ষ বোলারদের সমীহ করেই খেলতে থাকেন তারা। উইকেটে টিকে থাকাটাই ছিল তাদের মূল মন্ত্র। তারপরও রানের চাকা সচলই ছিলো মুশফিকুর ও মাহমুদউল্লার ব্যাটিং দৃঢ়তায়।
কিন্তু মাহমুদউল্লাহকে তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা। ২০ বলে ৭ রান করেন মাহমুদুল্লাহ। মুশফিকুরের সাথে ১৮ রানের জুটি গড়েন তারা। এই জুটির স্কোরই পেরিয়ে যান পরবর্তীতে মুশফিকুর ও সাব্বির রহমান। পঞ্চম উইকেটে ২৩ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন মুশফিকুর ও সাব্বির। কিন্তু এবারও বাংলাদেশের চলার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান পেরেরা। সাকিবের মত ২টি চারে ইনিংস শুরু করা সাব্বির ১২ বলে ১০ রান করে ফিরেন। দলীয় ৫৭ রানে সাব্বিরের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ভরসা হিসেবে উইকেটে টিকে ছিলেন মুশফিকুর। কিন্তু টেল-এন্ডারদের নিয়ে লড়াই করতে পারেননি মুশফিকুর। দলীয় ৭৯ রানে তার বিদায়ের পর ২৪তম ওভারে মাত্র ৮২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। নিজেদের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি নবম সর্বনিম্ন রান বাংলাদেশের। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান। লংকানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রান ৭৬। ২০০২ সালে কলম্বোতে ৭৬ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিলো টাইগাররা। এ ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন মুশফিকুর। তার ৫৬ বলের ইনিংসে ১টি চার ছিলো। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সুরাঙ্গা লাকমল ৩টি, চামিরা-পেরোর-সান্দাকান ২টি করে উইকেট নেন।
জবাবে ফাইনাল নিশ্চিতের জন্য ৮৩ রান দরকার পড়ে শ্রীলঙ্কার। এই টার্গেট মারমুখী মেজাজেই টপকে যান শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা ও উপুল থারাঙ্গা। ৭১ বল বল মোকাবেলা করে ৮৩ রান তুলে ফেলেন তারা। ফলে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ১০ উইকেটে হারালো শ্রীলঙ্কা। গুনাথিলাকা ৩৫ ও থারাঙ্গা ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন লাকমল।



এ সংবাদটি 57 বার পড়া হয়েছে.
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •   
  •   
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*