দুর্ভোগের আরেক নাম সিলেট সদর উপজেলা ভূমি অফিস’ হয়রানিতে সেবাগ্রহীতারা

দুর্ভোগের আরেক নাম সিলেট সদর উপজেলা ভূমি অফিস’ হয়রানিতে সেবাগ্রহীতারা

নিউ সিলেট রিপোর্টার : সিলেট সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার অফিস (এসিল্যান্ড) দুর্ভোগের আরেক নাম। নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোজিনা আক্তার কর্মস্থলে যোগ দেয়ার পর থেকে ভোক্তভোগীদের দূর্ভোগের শেষ নেই। ভোক্তভোগীদের তাকে অদক্ষ ভূমি কর্মকর্তা দাবি করে বলেন, সিলেট সদর ভূমি অফিসে তাকে নিয়োগ দেয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছেই। আবার অনেকেই বলছেন প্রয়োজনের চেয়ে বেশী সততা দেখাতে গিয়ে নানা অজুহাতে কালক্ষেপন করছেন নামজারি মোকদ্দমাসহ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকান্ডে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তা নেই। কর্মকর্তা না থাকায় প্রায় দিনই সকালে বিভিন্ন মামলার পরবর্তী তারিখ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পড়ে গেছে। অনেক ভোক্তভোগী দূর-দুরান্ত থেকে এসে ফিরে গেছেন।
জানা যায়, গত বছরের ২৫ অক্টোবর সিলেট সদর এসিল্যান্ড অফিসে সহকারী কমিশনার কাজী আরিফুর রহমান এর স্থলে যোগদেন রোজিনা আক্তার। তিনি আসার পর শুরু হয় নামজারি জট। সদর উপজেলার হাজারও মানুষ পড়েন হয়রানিতে। জায়গা জমি কেনা-বেচা করতে নামজারি ছাড়া দলিল সম্পাদন হয় না। আর পূর্বের থাকা নামজারিতে বিক্রয় হলেও ক্রেতা নামজারি করতে গেলে পড়েন এই জটে। এই জট শুরু হয় বর্তমান সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার রোজিনা আক্তার আসার পর। এমনকি নতুন দলিল রেজিস্ট্রারির পর নামজারির জন্য কম সময় ব্যয় হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রি অফিস হতে হস্তান্তর নোটিশ (এলটি নোটিশ) সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তিনি হস্তান্তর নোটিশ না দেখে ফের তল্লাশীর নামে দিনের পর দিন পার করছেন, এতে বর্তমানে সময় লাগছে দ্বিগুন। তিনি প্রত্যক দিন ২০-৩০টি নামজারি শুনানীর তারিখ দিলেও হয় ৮-১০টি। আর তদন্তের নামে বিভিন্ন অজুহাতে দেয়া হয় নতুন করে শুনানীর তারিখ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিলেট সদর উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি শুনানী করতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন। অনেকে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছেন নামজারির শুনানীর জন্য। আবার ভিতরে চলছে শুনানী। এ নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোজিনা আক্তার এর সাথে বাকবিতন্ডার ঘটনাও ঘটে নামজারি করতে আসা মানুষের।
একজন ভোক্তভোগী বলেন, “তিনি জরুরতছে জিহাদা ইমানদার” বনতে গিয়ে মানুষকে অযথা হয়রানি করছেন। বুঝে না বুঝে একের পর এক মামলা খারিজ করছেন। কার্যালয়ের বাইরে নানা অজুহাতে প্রায় দিনই থাকেন।
আরও একজন ভোক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, নামজারী কেস নং ১৯৬৫/১৭-১৮, আবেদন গত ৯ অক্টোবর করলে শুনানির তারিখ ধার্য্য হয় ৬ নভেম্বর এবং নিষ্পত্তির তারিখ দেয়া হয় ২২ নভেম্বর। কিন্তু এখন পর্যন্ত নামজারি জটের রয়েছেন। কোন দিন শেষ হবে তিনি জানেন না। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমার জায়গার সব কিছু দেয়ার পরও নামজারির হয়রানি থেকে মুক্তি পাচ্ছি না। শুনানীর তারিখ আসলে একের পর এক তল্লাশীর নামে নতুন তারিখ দেয়া হয়।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আকবর বলেন, আগে প্রতিদিন যেখানে ৮০-১০০টি দলিল সম্পাদন করা হত, বর্তমানে ৪০-৫০টি দলিল সম্পাদন হচ্ছে। তাও বর্তমান এসিল্যান্ডের নতুন কোন নামজারির মাধ্যমে নয়, আগের রেখে যাওয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে কাজী আরিফুর রহমানের নামজারির মাধ্যমে। বর্তমান এসিল্যান্ড আসার পর দলিল রেজিস্ট্রি অনেকাংশে কমে গেছে। এবং সদর রেজিস্ট্রি অফিসের কাজ স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেট সদর ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) রোজিনা আক্তার বলেন, প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন করছেন। এবং অনেক সময় অফিসের কাজে বাইরে গেলে সময়টা একটু ব্যাহত হয়।
হয়রানির শিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজে স্বচ্ছতার জন্য অনেক সময় দলিল বা আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে সময় লেগে যায়। এবং যে জায়গায় সন্দেহ হয় সেখানে সার্ভেয়ার বা অধীনস্থ কর্মকর্তাকে দিয়ে যাচাই-বাছাইয়ে একটু সময় লাগে।



এ সংবাদটি 106 বার পড়া হয়েছে.
Spread the love
  • 40
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •   
  •   
  •   
  •  
  •  
    40
    Shares
  •  
    40
    Shares
  • 40
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*