শেখ হাসিনার ভিশন-২১ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি : ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম

শেখ হাসিনার ভিশন-২১ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি : ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম

জুমান আহমেদ : ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু হয় সিলেটের প্রশাসনের হেড কোয়াটার সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত উনিশ জন কমিশনার দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারী প্রথম নারী বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম। তিনি ২০তম সিলেট বিভাগীয় কমিশনার।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়ীত্বে একবছর উপলক্ষে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২১ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারসহ দেশকে উন্নয়নশীল ও শক্তিশালী স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে পরিণত করতে যে কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমান সরকার দেশের অনেক অগ্রগতি করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, নারী ক্ষমতায় ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আর প্রধানমন্ত্রী’র স্বপ্ন ভিশন-২১ বাস্তবায়নে আমরা রুটিন মাফিক কাজ করে যাচ্ছি।
নারী হিসেবে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর সিলেট বিভাগে প্রশাসনে নারীর পদায়ন বেশী হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গিকার পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সমঅধিকার দেয়া। সে অনুযায়ী বর্তমানে প্রথমিক স্কুলগুলোতে নারীদের পদায়ন অর্ধেকের চেয়ে বেশী। কিন্তু প্রশাসনে তার চেয়ে অনেক কম। প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্যে ভিশন-২১ এর ভিতরে প্রশাসনে নারীদের ২৫ শতাংশ পদায়ন। আর সে লক্ষ্যে আশা করি ভিশন-২১ আগে পৌঁছে যাব আমরা ।
সিলেটে দায়িত্ব পালনে এক বছরে নিজের উল্লেখ যোগ্য কোনো কাজ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দেশের উন্নয়নে যে কর্মসূচী গ্রহণ করেন তা বাস্তবায়নে রুটিন অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, সিলেটে আমার প্রথম কাজটি ছিল প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা। এজন্য সিলেট বিভাগের প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে ভাবেই হোক সবাইকে দূর্নীতির উর্ধে থেকে কাজ করতে হবে। ডিসি, এডিসি, ভূমিসহ সব কার্যালয়ে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় এজন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কাজের অগ্রগতি হিসেবে তিনি বলেন, এখন আগের মতো আর বাল্যবিবাহ নাই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, জঙ্গিবাদ, নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এমনকি পরিবেশ রক্ষায় সিলেটের বিভিন্ন পাথর কোয়ারিসহ টিলা কাটার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর সাথে জড়িত যেই হোন বা যত বড় ক্ষমতাবান থাকেন না কেন তাকে আইনের আওতায় আনার নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুনাগঞ্জের টাংগুয়ার হাওরে পর্যটন প্রেমিদের জন্য ওয়াচ টাওয়ার। জাফলং ও শ্রীপুর এলাকায় পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় সর্বদা প্রশাসন সোচ্চার। তাই পাথর কোয়ারি এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এবং অনাবাদি জমি কৃষির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী দিনের সিলেট কিভাবে দেখতে চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিশু স্বাস্থ্য, নারী উন্নায়ন, শিক্ষায় এখনও কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। এ নিয়ে আগামী দিন কাজ করতে হবে।



এ সংবাদটি 75 বার পড়া হয়েছে.
Spread the love
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •   
  •   
  •   
  •  
  •  
    4
    Shares
  •  
    4
    Shares
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*