পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনের বিদায়

পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনের বিদায়

নিউ সিলেট ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে রেক্স টিলারসনকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার স্থলাভিষক্ত হচ্ছেন সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেও। খবর বিবিসির।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন গিনা হ্যাসপেলকে। তিনিই সিআইএ’র প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেন।
এক টুইটে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সিআইএ ডিরেক্টর মাইক পম্পেও আমাদের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন। তিনি চমৎকার কাজ করবেন। রেক্স টিলারসন যে কাজ করেছেন তার জন্য তাকে ধন্যবাদ। গিনা হ্যাসপেল হবেন সিআইএর নতুন ডিরেক্টর এবং এই পদে তিনিই হচ্ছেন প্রথম নারী। সবাইকে অভিনন্দন।
মার্কিন নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও
মার্কিন শীর্ষ তেল কোম্পানি এক্সন মবিলের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেক্স টিলারসনকে মাত্র এক বছর আগেই এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই ঘোষণার সময় বিবিসিকে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ সংলাপ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয়ে দরকষাকষির পূর্বে একটি নতুন অগ্রগামী দল তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান প্রেসিডেন্ট।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এবং উত্তর কোরিয়াসহ বেশ কিছু বিষয়ে নিয়ে টিলারসনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মতবিরোধ স্পষ্ট হচ্ছিল বলে খবরে প্রকাশ।
গত জুলাইতে খবর প্রকাশ, টিলারসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘গর্দভ’ বলেছেন। তবে সে কথা কখনো অস্বীকার করেননি তিনি। তবে গত অক্টোবর মাসে তার পদত্যাগের গুজব ওঠার পর এক সংবাদ সম্মেলন করে তাকে তা অস্বীকার করতে হয়েছিল।
সে সময় প্রেসিডেন্টও খোলাখুলি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অপদস্থ করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মীমাংসা বৈঠকের চেষ্টা করে টিলারসন তার সময় নষ্ট করছেন।
নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদপত্রগুলো লিখেছে – পররাষ্ট্র বিষয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষুদ্র জ্ঞান নিয়ে টিলারসন বিস্ময় প্রকাশ করতেন।
নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে- বিভিন্ন বৈঠকে টিলারসনের মুখভঙ্গি বা শরীরী ভাষা নিয়ে বিরক্ত হতেন প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হলে, টিলারসন চোখ বড় করে ফেলতেন অথবা চেয়ারে গা এলিয়ে দিতেন।
কেমন মন্ত্রী হবেন মাইক পম্পেও
উত্তর কোরিয়া বা ইরান ইস্যুতে মাইক পম্পেও অধিকতর কট্টরপন্থী। ফলে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে পররাষ্ট্র দপ্তরের মতপার্থক্য কমবে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাজনীতির শিক্ষক আলী রিয়াজ বিবিসিকে বলেন, পম্পেও’র নিয়োগের পর মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি অনেক বেশি কঠোর হতে পারে।
টিলারসনের বিদায়ই ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এবং এর মধ্য দিয়ে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক্সন মবিলের সাবেক প্রধান নির্বাহীর কয়েক মাসের উত্তেজনার নিরসন ঘটল।dt/ns/-



এ সংবাদটি 82 বার পড়া হয়েছে.
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •   
  •   
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*