সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে সেবার পরিধি বাড়লেও জনবল সংকটে কাতর

প্রকাশিত: ১১:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২০

সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে সেবার পরিধি বাড়লেও জনবল সংকটে কাতর

নিউ সিলেট রিপোর্ট : সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে সেবার পরিধি বাড়লেও জনবল সংকটে কাতরাচ্ছে সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি। সেবা গ্রহিতাদের নানা অভিযোগ থাকলেও, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির পরিধি বাড়ানো হয়েছে। তবে, সেবার পরিধি বাড়ানো হলেও সেবা গ্রহিতার তুলনায় জনবল সংকটে কাতরাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তার উপরে রয়েছে টেকনিক্যাল সমস্যা। দিনের বেশীর ভাগ সময় সার্ভারের সমস্যায় ভোগতে হয় সংশ্লিষ্টদের। এতে অনেক সময় এখানে আসা সেবা গ্রহিতাদের বোঝার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া, দীর্ঘদিন থেকে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের দালালদের উৎপাত ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা সেবা গ্রহিতাদের হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবনিযুক্ত পরিচালক একেএম মাজহারুল ইসলামের কঠোর নির্দেশনায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাসপোর্ট অফিসকে তিনি দালাল মুক্ত ঘোষণা করেছেন। এবং মানুষ যেন সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারে, অফিসের সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়ীত্বশীল হয়ে কাজ করতে নির্দেশ প্রদান করেন।
জানা যায়, সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে কম সময়ে মানুষকে সহজে সেবা দিতে নবনিযুক্ত পরিচালকের নির্দেশনায় বিভিন্ন ডেস্ক বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, হজ্ব যাত্রীদের জন্য ডেস্ক, মুক্তিযোদ্ধা ও সরকারি চাকুরিরতদের জন্য ডেস্ক, রোহিঙ্গা সনাক্তকরণ ডেস্ক এবং মহিলাদের আলাদা ডেস্ক। ইতোমধ্যে দুরদুরান্ত থেকে আসা বিভিন্ন উপজেলার মানুষ এর সুফল পাচ্ছেন। এছাড়াও, দালাল ছাড়া একজন মানুষ যাতে সহজে তার নিজের পাসপোর্ট করতে পারে বা যেকোন তথ্য জানতে পারে তার জন্য তথ্য ডেস্ক রয়েছে। তবে, এতো কিছুর পরও জনবল সংকটের কারণে কাঙ্খিত সুফল পাচ্ছেন না সেবা গ্রহিতারা।
জকিগঞ্জ থেকে এখানে আসা সেবা গ্রহিতা সুমন আহমদ বলেন, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)-এর ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) সময় অনেক কম লাগে। তিনি বর্তমানে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট বলে জানান।
কোম্পানিগঞ্জ থেকে আসা সেবা গ্রহিতা রাসেল মিয়া জানান, আগে যেখানে দালাল ছাড়া পাসপোর্ট করা যেত না, বর্তমানে পাসপোর্ট অফিসের কর্যক্রম স্বপ্নের মত। এখন দালাল ছাড়াই সহজে তিনি নিজের পাসপোর্ট করে সন্তুষ্ট। তবে, তিনি আরও লোকবল থাকলে মানুষ আরও সহজে ও কম সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারবে বলে জানান।
এবিষয়ে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের নবনিযুক্ত পরিচালক একেএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে সুরক্ষিত ও দেশের মানুষকে সহজে সেবা দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) থেকে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট)-এর কার্যক্রম চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি উদ্বোধন করেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় ই-পাসপোর্ট কর্যক্রম চলছে।
তিনি বলেন, ই-পাসপোর্ট হওয়াতে দেশে অনেক বড় বড় অপরাধিকে যেভাবে চিহ্নিত করা যাবে, তেমনি সাধারণ মানুষ সহজে ও কম সময়ে পাসপোর্ট তার হাতে পেয়ে যাবে।
তিনি বলেন, মানুষ যাতে সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারে, আমি অফিসে কাজের পরিধি বাড়িয়েছি। এবং ইতোমধ্যে দালাল মুক্ত সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এখানে সেবা গ্রহিতার তুলনায় লোকবল অনেক কম। এতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। কাজের তুলনায় লোকবাল কম হওয়ার কারণে সেবা গ্রহিতাদের অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর মধ্যে সার্ভরের সমস্যাও রয়েছে। লোকবল পর্যপ্ত হয়ে গেলে মানুষ খুব দ্রুত সেবা পাবেন বলে তিনি জানান।



এ সংবাদটি 156 বার পড়া হয়েছে.
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ শিরোনাম