নগরীর বাজারগুলো নিয়ন্ত্রনহীন
সিলেটে দ্বিতীয় দিনের সর্বাত্মক লকডাউন চলছে

প্রকাশিত: ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২১

<span style='color:#ff0000;font-size:20px;'>নগরীর বাজারগুলো নিয়ন্ত্রনহীন </span> <br/> সিলেটে দ্বিতীয় দিনের সর্বাত্মক লকডাউন চলছে

নিউ সিলেট রিপোর্ট : করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও চলছে দ্বিতীয় দিনের সর্বাত্মক লকডাউন। গতকাল ভোর ৬টা থেকে শুরু হয় এই লকডাউন চলবে আগামী ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত। সর্বাত্মক এই লকডাউনে সরকারের পক্ষ থেকে ১৩ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে গণপরিবহন। তবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সঙ্কুচিত হলেও অর্থনীতি সচল রাখতে সরকার এই সর্বাত্মক লকডাউনে জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি খোলা রাখা হয়েছে শিল্প-কারখানা। সীমিত পরিসরে দেয়া হচ্ছে ব্যাংকিং সেবা। এছাড়া, ৬ঘন্টা সময় বেধে খোলা স্থানে কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যদি কেনা-বেচা করা নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। তাছাড়া, জরুরি প্রয়োজনে মানুষের চলাচলে গত ১৩ এপ্রিল থেকে ‘মুভমেন্ট পাস’ বিশেষ অ্যাপ চালু করেছে পুলিশ।
সরজমিনে গিয়ে সিলেট নগরীতে ঘুরে দেখা যায়, প্রথম দিনের তুলনায় রাস্তায় বিচ্ছিন্ন ভাবে যানবাহন চলছে। এর মধ্যে রয়েছে, মাইক্রোবাস, কার, সিএনজি অটোরিক্সা, মটরসাইকেল ও বিশেষ করে রিক্সা চোখে পড়ার মত। নগরীর বিশেষ পয়েন্টে রয়েছে এসএমপি পুলিশের চেক পোষ্ট। প্রশাসনের সামনে চলছে এই যানবাহন। তবে, মানুষের বিভিন্ন অজুহাতে প্রশাসন নির্বিকার। তবে, বিপদজনক যেন নগরীর বাজার গুলো। ১৩ দফার নির্দেশনায় খোলা স্থানে বাজারের কথা থাকলেও নেই এর কোনা বাস্তবতা। চলছে আগের বাজারগুলোই। এর মধ্যে নগরীর সোবহানিঘাটের কাঁচাবাজার, কাজিরবাজার ও লালবাজারের বেহাল অবস্থা। বাজারগুলোতে শ^াস ফেলানোর সুযোগ নেই। গাদাগাদি করে মানুষ সধাই করেছেন। সামাজিক দূরত্ব দুরের কথা, নেই স্বাস্থ্য বিধির লেস। প্রশাসনের কাউকে সেখানে দেখা যায় নি। এবং বাজারগুলোতে এখনো কোন তদারকি নেই বলেও অনেকে জানান।
অনেকে অভিযোগ করে বলেন, সব জায়গায় সামাজিক দূরত্ব রাখতে সংখ্যা নির্ধারণ করা হলেও বাজারগুলোতে নেই। এমনকি সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন তদারকিও করা হচ্ছে না। তারা নগরীর বাজার গুলোতে নজর দিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মিডিয়া বি,এম,আশরাফ উল্যাহ তাহের জানান, এসএমপির বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও কেন্দ্র গুলো নগরবাসির সেবায় কাজ করছে। এছাড়াও পেট্রোলের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় কাজ চলছে। কিন্তু, জরুরি সেবা ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় আমাদের কিছু বেগ পেতে হচ্ছে। খবর নিয়ে নগরীর বাজারগুলোতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
লকডাউনের ১৩ দফা প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন—কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুত্, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন—এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। এছাড়া, ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি অতি জরুরি প্রয়োজনীয় কাজে বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে।



এ সংবাদটি 154 বার পড়া হয়েছে.
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ শিরোনাম