ভারতে বিমানবাহিনীর নারী অফিসারকে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২১

ভারতে বিমানবাহিনীর নারী অফিসারকে ধর্ষণের অভিযোগ

নিউ সিলেট ডেস্ক : ভারতে বিমানবাহিনীর অফিসারদের একটি পার্টিতে সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক অফিসারের বিরুদ্ধে। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ভারতের বিমান বাহিনীর অফিসারদের এক পার্টিতে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার- অমিতেশ হরমুখ (২৯), তিনি বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট।
ভিকটিম জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে বিমান বাহিনীর অফিসারদের মেসে পার্টিতে অংশ নেন তিনি। ভোরে মাদকাসক্ত হয়ে তার ওপরে চড়া হন ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত অফিসার অমিতেশ হরমুখ। এসময় পায়ে চোট পান তিনি। পরে ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে ঘুম থেকে ওঠে তিনি বুঝতে পারেন, তাকে যৌন নিগ্রহ করা হয়েছে। এঘটনায় বাহিনীতে অভিযোগ করলে তাকে ‘টু ফিঙ্গার টেস্টে’র করা হয় বলে তিনি জানান। এসময়, তার যৌন সম্পর্কের ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে জানিয়েছেন তিনি। তবে, সে দেশে ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ নিষিদ্ধ।
তিনি জানান, ধর্ষণের প্রমাণের জন্য ‘টু ফিঙ্গার টেস্টে’র কথা বলা হয় ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাসপাতালে। পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেন বাহিনীর দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এতে সংবাদমাধ্যমে বিমানবাহিনীর বদনাম হবে বলে জানানো হয় তাকে। বিমানবাহিনীর কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপে সন্তুষ্ট না হতে পেরে তিনি বাধ্য হয়ে থানায় যান।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে দু’বার তাকে অভিযোগপত্র তুলে নিতে চাপ হচ্ছে। এছাড়া, তাকে বয়ান বদল করা একটি চিঠিতে সই করতে বলা হয়, কিন্তু তিনি রাজি হননি। গত ২০ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারী অফিসার। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিতেশ হরমুখকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এবিষয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল বিবেক রাম চৌধুরী ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে, ভিকটিমকে কোনো ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের বিমানবাহিনীর আইন খুবই কঠোর। নারী অফিসারের ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ করানোর ভুল খবর বেরিয়েছে। কোনো ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ হয়নি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
তবে, ভারতের মহিলা কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, বিমানবাহিনীর একজন নারী অফিসারের তোলা অভিযোগের বিষয়ে তারা ভারতীয় বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা ভারতীয় বিমানবাহিনী ডাক্তারদের আচরণে অত্যন্ত হতাশ, ক্ষুব্ধ, কেননা তারা নির্যাতিতার টু ফিঙ্গার টেস্ট করিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করেছেন, নির্যাতিতার সম্মান, গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারেও হস্তক্ষেপ করেছেন।
এদিকে, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে বিমানবাহিনী পিটিশন দাখিল করে জানিয়েছে, অফিসারকে গ্রেফতার করার অধিকার স্থানীয় পুলিশের নেই। সেনা আদালতে তার বিচার করা হবে। অভিযুক্তকে বিমানবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হোক।
সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা, ওয়ান ইন্ডিয়া ও জি ২৪।



এ সংবাদটি 31 বার পড়া হয়েছে.
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ শিরোনাম