নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২১

<span style='color:#ff0000;font-size:20px;'>নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে </span> <br/> সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিউ সিলেট রিপোর্ট : ‘কৃষিই কৃষ্টি, কৃষিই সমৃদ্ধি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপীঠ সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। আয়োজনের মধ্যে ছিল আবহমান বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অংশ পুতুল নাচ, লাঠিখেলা, সংলাপ ও সংগীত।
বেলুন ও সাদা পায়রা উড়িয়ে কৃর্ষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মতিয়ার রহমান হাওলাদার। পরে সকাল ১১ টায় প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গন থেকে আবহমান বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অংশ পুতুল নাচ ও লাঠিখেলার মাধ্যমে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি টিলাগড় চত্বর প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা শেষে বৈশাখী চত্বরে শুরু হয় লোকজ লাঠিখেলা। লোকজ সংস্কৃতি উপভোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সিলেটের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। লাঠিখেলা শেষে প্রদর্শিত হয় পুতুলনাচ। কখনো সংলাপ, কখনও সংগীত আর কখনও বাদ্যযন্ত্রের তালে পুতুল নাচ দেখে বিমোহিত হন আগত দর্শকবৃন্দ।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: মতিয়ার রহমান হাওলাদার বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২০ বছরের একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব এক্সসিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
উপাচার্য বলেন, করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় যাতে এগিয়ে যেতে পারে এ কারণে সবাই মিলে কাজ করে যাচ্ছেন। ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোঃ মাহফুজুর রবের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন, রেজিস্ট্রার মো: বদরুল ইসলাম শোয়েব, ডিন কাউন্সিলের আহ্বয়াক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন, পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) প্রফেসর ড. মো: মোস্তফা সামছুজ্জামান ও প্রক্টর ড. মো: তাওহীদ হাসান।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২ নভেম্বর তৎকালীন সিলেট ভেটেরিনারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ৬ টি অনুষদ ও ৪৭ টি বিভাগের অধীনে প্রতিনিয়ত চলছে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার কাজ। হাওরাঞ্চলে আগাম ধান চাষের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন, বছরব্যপী উৎপাদনশীল শিমের জাত উদ্ভাবন, কৃষি আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট তথ্য সরবারহ, গ্রীষ্মকালীন শিম ও টমেটোর জাত উদ্ভাবন, চায়ের গ্রেড নির্ণয়ের প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সয়ংক্রিয় সেচযন্ত্র উদ্ভাবন, উলম্ব ভাসমান খামারে একক স্থানে অধিক শষ্য উৎপাদন, মাছের মড়করোধে ভ্যাক্সিন আবিষ্কার, সিলেটের রাতারগুল জলাবন ও হাওরাঞ্চলে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় অভয়াশ্রম গড়ে তোলা, মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন, মাৎস্যচাষে ‘সয়াগ্রোথ বোস্টার’ নামক প্রোটিন পরিপূরক আবিষ্কার, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সামুদ্রিক কুয়াশা নির্ধারণ ও স্থানান্তর কৌশলের মাধ্যমে সামুদ্রিক দূর্ঘটনা রোধসহ কৃষির আরও অন্যান্য খাতে সফলতা পেয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকবৃন্দ। বৈশ্বিক মহামারীর সময়েও আন্তর্জাতিক সূচক স্কোপাসে সূচিত বিভিন্ন জার্নালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকবৃন্দের ১০০ এর অধিক গবেষণাপ্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।



এ সংবাদটি 47 বার পড়া হয়েছে.
Spread the love
        
 
   more 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ শিরোনাম