সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে
আইনের দোহাই দিয়ে গণতন্ত্রের মাকে সরকার হত্যার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে : আমীর খসরু মাহমুদ

প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২১

<span style='color:#ff0000;font-size:20px;'>সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে </span> <br/> আইনের দোহাই দিয়ে গণতন্ত্রের মাকে সরকার হত্যার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে : আমীর খসরু মাহমুদ

নিউ সিলেট রিপোর্ট : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আইনের দোহাই দিয়ে গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের সংবিধানে আছে মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা প্রধান করা। কিন্তু সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর সাংবিধানিক অধিকার চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে আইনের দোহাই দিচ্ছে সরকার। আসলে আইন নয়, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার। এটা দিনের মতো পরিষ্কার বেগম জিয়াকে হত্যার পরিকল্পনায় লিপ্ত সরকার। আর গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকার ও শেখ হাসিনাকে দায় নিতে হবে। আজ মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ২টায় সিলেট রেজিষ্ট্রারী মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির আহবায়ক সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকীর সভাপতিত্বে, সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল আহাদ খান জামালের যৌথ পরিচালনায় আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, আইনের কথা আপনাদের মুখে মানায় না। কারণ, আপনারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছেন। ক্ষমতায় থেকে আপনারা বহু মানুষকে খুন করেছেন, বহু মানুষকে গুম করেছেন, বহু মানুষকে হত্যা করে এখন আইনের বড় বড় কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি আমার নেত্রী গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারকে বলবো না। আমি প্রথমে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করছি। কারণ, দেশ নেত্রীর মুক্তি হলে দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি হবে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, কৃষক, দিনমজুর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এসময় সরকারকে হুশিয়ার করে খসরু বলেন, এখনও সময় আছে গণতন্ত্রের মা দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। না হলে এর বোঝা সরকার ও শেখ হাসিনাকে সারা জীবন বইতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ী মুক্তি দিন। অন্যথায় সরকারকে কঠোর পরিনতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ক্ষমতা বেশীদিন থাকবেনা। বেগম খালেদা জিয়ার সাথে অন্যায় আচরণের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সুহেল, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদী লুনা, ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, বিএনপির কেন্দ্রীয সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সহ স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ডা: শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, কেন্দ্রীয় সদস্য নাসের রহমান, মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান। আরও বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, মহানগর সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট আব্দুল গাফফার, মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির শাহীন, ফরহাদ চৌধুরী শামীম, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক কাউন্সিলার রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জিয়াউল গণি আরেফিন জিল্লুর, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নজিবুর রহমান নজিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট এ টি এম ফয়েজ উদ্দিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট রুকশানা বেগম শাহনাজ, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক সালেহ আহমদ খসরু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুবুল হক চৌধুরী, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক এ কে এম তারেক কালাম, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সুরমান আলী, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শহীদ আহমদ চেয়ারম্যান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মুনিম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ প্রমূখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আমি আইনের মানুষ। কোন আইনেই তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে বাধাঁ দেয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন মাফিক চিকিৎসা সেবা পাওয়া সকল নাগরিকের অধিকার। সরকার নিজেরাই আইন বহির্ভুতভাবে দিনের ভোট রাতে দিয়ে ক্ষমতায় ঠিকে আছে। আইন ও সংবিধান বহির্ভুতভাবে দেশ পরিচালনা করছে। বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য আইনী কোন বাধাঁ নেই। বাধা হচ্ছে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তাই রাজনৈতিকভাবেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন একটি রাজনৈতিক গণ আন্দোলন।
যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সুহেল বলেন, আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসারের বিচারে বন্দী বেগম খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর মূখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আমাদের নেত্রী ভাল না থাকলে আমরা ভাল থাকিনা। কারণ সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে যায়। আর আমরা বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা যাই আদালতে। সুতরাং আমাদেরকে হামলা মামলা, জেল জুলুমের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। সময় থাকতে শুভ বুদ্ধির উদয় হলে ভাল। অন্যথায় সামনে কঠিন পরিনতি বরণ করতে হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে অসুস্থ বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এছাড়া, ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনা ও দেশ এবং দেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়।



এ সংবাদটি 40 বার পড়া হয়েছে.
Spread the love
        
 
    

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ শিরোনাম