সিলেট জেলা বিএনপির সমাবেশে
আ.লীগ স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করছে: টুকু

প্রকাশিত: ৯:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২২

<span style='color:#ff0000;font-size:20px;'>সিলেট জেলা বিএনপির সমাবেশে </span> <br/> আ.লীগ স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করছে: টুকু

নিউ সিলেট রিপোর্ট : বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের ইতিহাস পাল্টে দিয়েছে। তারা বলে আওয়ামী লীগ ছাড়া না কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আর কেউ যায় নাই। এসময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে সাদেক হোসেন খোকা গেল কিভাবে! আর আমি গেলাম কেমন করে! তিনি বলেন, এরকম আরও অনেকে গেছেন। এসময় তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ। তারা লুঙ্গি পড়ে, গামছা পড়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছে। কারও হুইসেলে স্বাধীনতা লাভ করে নাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করছে। আজ বুধবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার দাবিতে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের সভাপতিত্বে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ২৫ মার্চ কালো রাতে হানাদার বাহীনী যখন আমাদের উপর ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পুলিশদের উপর আক্রমণ করে। রাত ৩টা পর্যন্ত পুলিশদের সাথে যুদ্ধ করে পরাজিত হয়েছিল, সেই প্রথম যুদ্ধে আমি তাদের সাথে যুক্ত হই। তিনি বলেন, ২৬ মার্চ ঢাকা শহরে কারফিউ ছিল, তখন কারও কোন খবর ছিল না। ২৭ মার্চ কিছু সময়ের জন্য কারফিউ তুললে, মানুষ জানে না কোথায় যাবে। তিনি বলেন, ওই সময় মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়লাভ করে মুক্তি চাইলো, তখন তারা সব লেজ গুটিয়ে লেলি কুকুরের মত ভারতে পালিয়ে যায়। বাংলাদেশের ৭ কোটি মানুষকে হায়নার মুখে ফেলে দিয়ে তারা চলে গিয়েছিল ভারতে নিরাপদ স্থানে। এসময় তিনি বলেন, এর নাম আওয়ামী লীগ।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মা, গণতন্ত্রের কান্ডারি বেগম খালেদা জিয়া। তিনি জনগণের ভাষা বুঝেন। যার কারণে আজ পর্যন্ত যত জায়গা থেকে নির্বাচন করেছেন, সবগুলো নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেছেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বলেন, খালেদা জিয়াকে যিনি বন্দী করে রেখেছেন তিনি নির্বাচনে সাদেক হোসেন খোকা ও বিকল্পধারার নেতা মেজর মান্নানের কাছে পর্যন্ত পরাজিত হয়েছেন। পরাজিত হওয়ার পরে তিনি আর ঢাকায় নির্বাচন করেননি।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জনগণের ভাষা বুঝতে পেরে সংসদীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছেন। তিনি কেয়াটেকার সরকার দিয়েছিলেন এবং এর পরের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তিনি বিরোধী দলীয় নেত্রী হয়েছিলেন। একেই বলে গণতন্ত্র। এসময় টুকু বলেন, তিনি চাইলে সেদিন আন্দোলন দমিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, কারণ তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া মানুষের কথা বলেন, এই জন্যই তাকে জেলে রেখে স্লো পয়জনিং করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে টুকু বলেন, রাজপথকে প্রকম্পিত করে আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। গুলি খেতে হবে। রাজপথ রঞ্জিত করতে হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে যদি আমার দেশের মানুষের গুলি আমার শরীরে লাগে তবে আমি গর্বিত শহীদ। এসময় তিনি বলেন, প্রতীকী নয়, আসল কাফনের কাপড় পরে জেলের তালা ভেঙে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।
সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, মাহবুবুল হক চৌধুরী ও আবুল কাশেম এর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওমর ফারুক শাফিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কাউন্সিলার ফরহাদ চৌধুরী শামীম, মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন খান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সিলেট বিভাগীয় টীম লিডার সাজিদ হাসান বাবু।
জেলা বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল মালেকের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সুচীত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আশিক উদ্দিন চৌধুরী, আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, আব্দুল মান্নান, শাহজামাল নুরুল হুদা, ফখরুল ইসলাম ফারুক, মামুনুর রশীদ মামুন, ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, এড. এমরান আহমদ চৌধুরী, এড. হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, আব্দুল আহাদ খান জামাল ও শামীম আহমদ, সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক একেএম তারেক কালাম, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শহীদ আহমদ চেয়ারম্যান, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. মুমিনুল ইসলাম মুমিন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সালেহা কবির শেপি, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সুরমান আলী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আজাদ মেম্বার, টুলটিকর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম, খাদিমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহেদ আহমদ, কান্দিগাও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আহমদ হোসেন, মোগলগাও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বশির আহমদ, টুকেরবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এনাম মেম্বার, জালালাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসলাম উদ্দিন ও হাটখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজির উদ্দিন চেয়ারম্যান।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ তালুকদার ও আনসার উদ্দিন, সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির শাহীন, এমদাদ হোসেন চৌধুরী, নজিবুর রহমান নজিব, সৈয়দ মঈনুদ্দিন সোহেল প্রমূখ।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমাদের মা ভালো না থাকলে আমরা ভালো থাকিনা, দেশ ভালো থাকেনা। বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ প্রেরণের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় আমাদের নেতা তারেক রহমান বলে দিয়েছেন, আমরাও বলছি, দেশ যাবে কোন পথে ফয়সালা হবে রাজপথে।



এ সংবাদটি 32 বার পড়া হয়েছে.
Spread the love
        
 
    

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ শিরোনাম