ছাতকের পাগনা বড়বিল জলমহাল ইজারায় সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২

ছাতকের পাগনা বড়বিল জলমহাল ইজারায় সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জালিয়া ছাতারপই “পাগনা বড়বিল” জলমহালের ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ইজারা নিয়ে দুর্নীতি, শর্তভঙ্গ ও সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০০৯ লঙ্ঘন করে সাব-লিজ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইজারাদার মিরাশ আলী ও লুৎফুর রহমানের প্ররোচনায় সাব-লিজ হিসেবে মোজাক্কির আহমদ জলমহালে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর এখন বিপাকে পড়েছেন। ইজারাদার মিরাশ আলী ও লুৎফুর রহমানের লোভের খপ্পরে পড়ে মোজাক্কির আহমদ নিজের সাব-লিজের অংশ থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘সোনারতরী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ’র সভাপতি মিরাশ আলী ও সহযোগী লুৎফুর রহমান সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ইজারা বিক্রির অভিযোগে জেলা প্রশাসক বরাবরে গত ১২ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ পেশ করেছেন উপ-ইজারাদার মোজ্জাকির আহমদ।
জানা যায়, মিরাশ আলী ২০১৮ সালে লিজ গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছরে নগদ ৫ লাখ টাকা করে উপ-ইজারাদার মোজ্জাকির আহমদের কাছ থেকে নেন। চলতি বছরে নগদ ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ পোনামাছ ক্রয়, দল, বাঁশ, কাটা স্থাপন, নৌকা, জাল, দড়ি ক্রয়, ও পাহারাদারের বেতন ইত্যাদি বাবদে বিনিয়োগ করান ২০ লাখ টাকা। পরবর্তীতে মোজাক্কিরের বিনিয়োগকৃত অর্থ আত্মসাতের অসৎ উদ্দেশ্যে অংশীদারিত্ব থেকে বঞ্চিত করতে জলমহাল অন্যত্র বিক্রির পাঁয়তারা করেন মিরাশ আলী ও লুৎফুর রহমান। ঘটনা জানতে পেরে মোজাক্কির আহমদ তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসকের দফতরে ন্যায় বিচার চেয়ে দরখাস্ত পেশ করেন।
পেশকৃত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, পাগনা বড়বিল জলমহাল ইজারা গ্রহণের পূর্বেই ইজারাগ্রহিতা দরিদ্র মিরাশ আলী জলমহালে অর্থ বিনিয়োগের জন্য উপ-ইজারা হস্তান্তরের শর্তে মোজাক্কির আহমেদের শরণাপন্ন হন। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষ মোজাক্কির আহমেদ সরল বিশ্বাসে জলমহালে অর্থ বিনিয়োগে সম্মত হন। কিন্তু সরকারিভাবে ইজারা চুক্তির নীতিমালা লংঘন হবে বিধায় মিরাশ আলী অর্থ বিনিয়োগকারী উপ-ইজারাদার মোজাক্কির আহমেদের সাথে কোন চুক্তিনামায় উপনীত হতে চাননি। তবে গোটা বিষয়টি যাতে মোজাক্কির আহমেদের বিশ্বাসযোগ্য হয় এবং আয়ত্বে থাকে, সে উদ্দেশ্যে তখন মিরাশ আলী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ইজারা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষী হিসেবে রাখাসহ সমগ্র বিষয়ে মোজাক্কিরকে সাথে রাখেন। এরপর থেকে ইজারাদার মিরাশ আলী মোজ্জাকির আহমদকে উপ-ইজারা দিয়ে প্রতি বছরে নগদ অর্থসহ নানাভাবে বিনিয়োগ করিয়েছেন।
মোজ্জাকির আহমদ জানান, মিরাশ আলী ও লুৎফুর রহমান আমার বিনিয়োগকৃত অর্থ আত্মসাত, অতিরিক্ত লোভে পড়ে জলমহাল অন্যত্র বিক্রির পাঁয়তারা করছেন। পাশাপাশি আমার সাড়ে ২৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আমাকে অংশীদারিত্ব থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে জলমহালের জন্য মাছ, পোনামাছ কেনা-বেচার রশিদ আমার কাছে আছে। এছাড়াও প্রায় ৪ বছর যাবৎ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ ও সমন্বয়ে জলমহালে পোনা মাছ অবমুক্ত করার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তারপরও আমার সাথে এমন দূর্ব্যবহারে বাধ্য হয়ে আমি জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আমাদের ইউএনওকে তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে মূল ইজারাদার মিরাশ আলীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কথা ঠিক আছে, আমি সাব-লিজ মোজাক্কিরকে দিয়েছি। তবে টাকার বিষয়ের অভিযোগ সব সত্য নয়।


এ সংবাদটি 26 বার পড়া হয়েছে.
Spread the love
        
 
    

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ শিরোনাম

অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০